Posts

ফেলে আসা ইতিহাস

তুই সত্যিই ইতিহাস হয়ে যাচ্ছিস আর আমি ছুটছি ঘড়ির কাঁটা হয়ে। স্মৃতিগুলোকেও ভরসা আর হচ্ছেনা। যাচ্ছে মুছে... যাচ্ছে রে তারা ক্ষয়ে। তোকেও ভাবিনি আসতে হবে ফেলে। প্রাণের বন্ধু, দিয়েছিলাম সব ঢেলে। হাসি ঠাট্টার আওয়াজ গুলো ক্ষীণ... মিলিয়ে গেল... আর শোনা যাচ্ছেনা। পুকুরপারে ছিল কত শোরগোল। ঝিলের জলে বিকেলের প্রতিছবি। মনের মধ্যে ক্রমেই তলিয়ে যাচ্ছে। দৌড়ে ক্লান্ত, আর তারা পারছেনা। সত্যিই তুই ইতিহাস হয়ে যাচ্ছিস... হয়ত তোকে আর মনে থাকবেনা।

আজকের স্বপ্ন ৩

ট্রেনটা অনেক্ষণ লেট। সন্ধ্যার অন্ধকার নেমেছে। কোনো প্রবলেম হয়েছে তাই স্টেশনের বাইরে আটকে ছিল। কোনো এক সমস্যার জন্য সব প্ল্যাটফর্মে ট্রেন আটকে আছে। এই স্টেশনটায় একটি অনেক আগের আরেকটি প্ল্যাটফর্ম ছিল, যেখানটায় এখন শুধু পরিত্যক্ত জংধরা ট্র‍্যাক রয়েছে। প্ল্যাটফর্ম আর নেই। স্টেশনের একদম প্রান্তভাগের ট্র‍্যাক। এখন সেটি প্রায় একটি পাড়ার মধ্যে। পরিত্যক্ত রেলট্র‍্যাক প্রায় মাটির সাথে মিশে গিয়েছে। তার ওপর দিয়েই মানুষের যাতায়াতের মাটির রাস্তা। কোনো এক সময় ঐ ট্র‍্যাকে ট্রেন আসত, আজ যেখানে সারি বেঁধে রেলের জমি দখল করে বাড়ি হয়েছে, পাড়া হয়েছে রাস্তা হয়েছে, সেখানে প্ল্যাটফর্ম থাকার কথা এখন পাড়ার বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে শোনা যায়। সেই পরিত্যক্ত ট্র‍্যাকে পাড়ার ঠিক মাঝখানে, অনেক বছরের ঘুম ভেঙে খুব আস্তে আস্তে দুলকি চালে ট্রেনটা এসে থামল। সবার চাহনিতে বিস্ময়। ব্যাপারটা দারুণ! কিন্তু তাও তারা জানে যে এতে তাদের কিছুই করার নেই। প্ল্যাটফর্মের বদলে ঠিক পাড়ার একটি রাস্তার ওপর একটি লোকাল ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে। অনেকটা লাফিয়ে নীচে নামতে হল সবাইকে। ট্রেনের দরজা থেকে সোজা ঘাসের ওপর পা দেওয়ার অনুভূতিটা খুব অন্যরকমের।

আজকের স্বপ্ন ২

বাড়ির ছাদে শুয়ে আছি আকাশের দিকে মুখ করে। মাথার নীচে হাত রেখে। পড়নে আমার সেই হাফ প্যান্ট আর টি-শার্ট। নীল আকাশের দিকে দৃষ্টি। কিন্তু সেই নীল আকাশ এবং আমার মাঝে, অনেক উপরে চলে গিয়েছে একটি হাইওয়ে। কাঁচের হাইওয়ে। অনেক ওপরে সেটা। তার ওপর দিয়ে ছুটে চলেছে বহু গাড়ি। কাঁচের ওপার থেকে দেখা যাচ্ছে। আমার ঠিক ওপরে... অনেক দূরে।

মহাজাগতিক অতিথি

ঘরের জানলা দিয়ে দেখতে পেলাম যে রাতের লাল মেঘলা আকাশে একটি খুব ছোট্ট জিনিস অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পূর্ব থেকে পশ্চিমের দিকে ছুটে চলেছে। পেছনে তার গতিপথে একটি লাল রেখার ট্রেইল রেখে যাচ্ছে। জিনিসটা খুব ছোট্ট কিন্তু খুব ঝিকমিকি বেরোচ্ছে পেছন থেকে। আমি বেরোলাম ঘর থেকে। অন্ধকার চারিদিক। বেশ রাত। জিনিসটা যেন নীচের দিকেই আসছে। অদম্য তার গতি! আলোর ছটা বেরিয়েই চলেছে। বুঝলাম, এটা কোনো রকেট বা স্যাটেলাইট জাতীয় কিছুই হবে। কারণ এটা এখন অতটাও দূরে মনে হচ্ছেনা। আমাদের বায়ুমন্ডলের মধ্যেই এটা। ক্রমশ সেটা নীচের দিকে আসতেই থাকছে। এবার চিন্তা হতে লাগল। এটা কি হচ্ছে... এটা তো আমাদের দিকেই আসছে মনে হচ্ছে। আসেপাশেই কোথাও পড়বে হয়ত। তাহলে তো ব্যাপক হবে! আস্ত একটা স্যাটেলাইট আমাদের পাড়ার মাটিতে!! অ্যাড্রিনালিন একদম তুঙ্গে। এক্ষুণি ছুট দেব ওটার পেছনে একবার পড়লেই। কিন্তু ওটা তো এদিকেই আসছে। একি... একটা বিশাল শব্দের সাথে ওটা আমাদেরই উঠোনের পাঁচিলে পড়ল। পুরো ভেঙে গেছে পাঁচিলটা। টুকরো টুকরো হয়ে গেছে স্যাটেলাইটটা। বেশ বড়োই বস্তুটা...ভাগ্য ভালো আমার মাথায় পড়েনি! গা ছমছম করে উঠল ওটার দিকে যেতেই কিন্তু আমার অদম্য কিউরিওসিটি ...

Quote No. 109

Image

আজকের স্বপ্ন ১

আজকের স্বপ্ন : একটা সমুদ্র। তার পাশে চওড়া নির্জন সি বিচ। তার পাশে পরপর সারিবদ্ধ তালগাছ। তারপর থেকে শুরু হয়েছে গহন অরণ্য। সেই অরণ্যের মধ্যে আলো কম, শব্দ কম। জঙ্গলটা যেখান থেকে শুরু, তার কয়েক হাত ভেতরেই সমুদ্রের সমান্তরালভাবে চলেছে একটি নদী। নিস্তব্ধ, কিন্তু গতিমান। সেই নদীতে নৌকায় ভেসে চলেছি। গাছের ফাঁকফোকর থেকে দেখা যাচ্ছে দূরে সমুদ্র ও তার উত্তাল ঢেউ ও ফেনা। তার শব্দ জঙ্গলের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে সরে যাচ্ছে তালগাছের সারি। আর জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ...

Colorblast

Image