মহাজাগতিক অতিথি
ঘরের জানলা দিয়ে দেখতে পেলাম যে রাতের লাল মেঘলা আকাশে একটি খুব ছোট্ট জিনিস অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পূর্ব থেকে পশ্চিমের দিকে ছুটে চলেছে। পেছনে তার গতিপথে একটি লাল রেখার ট্রেইল রেখে যাচ্ছে। জিনিসটা খুব ছোট্ট কিন্তু খুব ঝিকমিকি বেরোচ্ছে পেছন থেকে। আমি বেরোলাম ঘর থেকে। অন্ধকার চারিদিক। বেশ রাত। জিনিসটা যেন নীচের দিকেই আসছে। অদম্য তার গতি! আলোর ছটা বেরিয়েই চলেছে। বুঝলাম, এটা কোনো রকেট বা স্যাটেলাইট জাতীয় কিছুই হবে। কারণ এটা এখন অতটাও দূরে মনে হচ্ছেনা। আমাদের বায়ুমন্ডলের মধ্যেই এটা। ক্রমশ সেটা নীচের দিকে আসতেই থাকছে। এবার চিন্তা হতে লাগল। এটা কি হচ্ছে... এটা তো আমাদের দিকেই আসছে মনে হচ্ছে। আসেপাশেই কোথাও পড়বে হয়ত। তাহলে তো ব্যাপক হবে! আস্ত একটা স্যাটেলাইট আমাদের পাড়ার মাটিতে!! অ্যাড্রিনালিন একদম তুঙ্গে। এক্ষুণি ছুট দেব ওটার পেছনে একবার পড়লেই। কিন্তু ওটা তো এদিকেই আসছে। একি... একটা বিশাল শব্দের সাথে ওটা আমাদেরই উঠোনের পাঁচিলে পড়ল। পুরো ভেঙে গেছে পাঁচিলটা। টুকরো টুকরো হয়ে গেছে স্যাটেলাইটটা। বেশ বড়োই বস্তুটা...ভাগ্য ভালো আমার মাথায় পড়েনি! গা ছমছম করে উঠল ওটার দিকে যেতেই কিন্তু আমার অদম্য কিউরিওসিটি আমাকে টানছে মন্ত্রমুগ্ধের মতো। এ জিনিস আমি ছাড়ব না! আজ আমার উঠোনে এক মহাজাগতিক বস্তু এসে পড়েছে। কাল এ খবর পেপারে ছাপবে, বিশাল ব্যাপার।
ধোঁয়া বেরোচ্ছে খুব টুকরোগুলো থেকে। মৃত ফড়িং-এর মতো বিশাল দেহটা নিয়ে উল্টে পড়ে আছে। আমি রীতিমতো ঝাপ দিয়ে পড়লাম। এ আমার! আজ আমি পুরো জিনিসটাকে ঘরে ঢোকাবো। স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে সব কলকব্জা খুলে দেখব। পুরো গ্র্যান্ড ফিস্ট যাকে বলে। লক্ষ করলাম ISRO লেখা নেমপ্লেটটা। তাহলে এ জিনিস আমাদের দেশেরই। ভেবেছিলাম তাও আমেরিকা ইউরোপ বা চীনের কিছু হবে... তাও কম কি! স্যাটেলাইটকি আর এমন কিছু যা সাধারণ মানুষের হাতে আসে! প্রচন্ড সোফিস্টিকেটেড এবং দেশের অন্যতম সম্পদ এগুলো। কিছুক্ষণ পরেই আরো একটি জিনিস পড়ল। আগের স্যাটেলাইটটিরই কোনো অংশ হবে। বেশী বড়ো না তাই পড়ার সাথে সাথেই পুরো চুরমার হয়ে গেল।
অবশ্য আমার এই স্যাটেলাইট খুলে দেখার ইচ্ছে বেশীক্ষণ স্থায়ী হল না কারণ ISRO-এর লোকজন তৈরীই ছিলেন। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই বিশাল লোকলষ্কর, পুলিশ এবং একদল বিজ্ঞানী এসে জিনিসগুলোকে তুলে নিয়ে গেল। ওনারা অনেক চেষ্টা করেও পাড়ার লোকদের বোঝাতে পারলেন না যে জিনিসটা কি, কেন ভেঙে পড়ল বা এরকম জিনিস আর আমাদের পাড়ার ওপর আছড়ে পড়বে না...
জীবনে প্রথম পাড়ার সারাজীবন রাজনীতি, সমাজ, আলুর দর এবং পাশের বাড়ির ছেলে-মেয়েদের নিয়ে PNPC করা কাকু কাকীমাদের মুখে মহাকাশসংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা শুনছি এমন সময়ে নীলার্কর কল এসে ঘুমটা ভাঙিয়ে দিল। আমার আর দেখা হল না ওটার কলকব্জা খুলে 😭😭
Comments
Post a Comment