My Bestfriend - 5

প্রায় বছর দুয়েক পর আমাদের আবার দেখা। আবছা হয়ে এসেছিল নিজেদের মনে একে অপরের মুখের অবয়ব, ভাবভঙ্গি সব। শুধু স্মৃতিচিহ্নগুলো নিয়ে একলা একটা বাঁধানো পুকুরঘাট আমাদের অপেক্ষা করছিল। এতদিনে যখন সেই অপেক্ষা সাঙ্গ হল, সবাই ক্লান্ত।


"জানিস, তুই একটা ম্যাজিকের মতো। আমি জীবনে একটা লোকের সাথেও, বিশ্বাস কর, এমনকী নিজের মা বাবার সাথেও দুটো কথা বলার পর তৃতীয় কি কথা বলব বুঝে পাইনা। আমি তো জানিসই, কেরকম ইন্ট্রোভার্ট। কিন্তু শুধু তোর সামনেই আমার কথার ঝুড়ি শেষ হয়না। বুঝে পাইনা কোনটা ছেড়ে কোনটা বলব। বাড়ি এসে মনে পড়ে যে এ বাবা, ওইটা তো বলাই হলনা। তোর সাথেই একমাত্র আমার কথা বলতে গেলে ভাবতে হয়না। আচ্ছা, তোর কাছে ঐ চিঠিটা আছে?"


"আছে। কিন্তু কোথায় আমি জানিনা।"


"সেকী! কেউ খুঁজে পেয়ে গেলে?"


"পেলে পাবে। এখন আর যায় আসেনা।"


"আচ্ছা ধর, ঠিক তোর বিয়ের দিনই তোর বাবা খুঁজে পেল চিঠিটাকে। তারপর বলল, "বল আমায় কে তোকে এই চিঠিটা লিখেছে! কে সে যে তোকে নিয়ে এত ভাবে এত গভীর থেকে চিন্তা-ভাবনা করে?! কে সে! আমি তার সঙ্গেই তোর বিয়ে দেব!" তারপর তুই বললি "ঐ ছেলেটা বাবা, যে মনে আছে একটা ফ্যান বানিয়ে দিয়েছিল?" তারপর তোর বাবা বলল, "কী?! সেই ছেলেটা! তাহলে তো তোর বিয়ে ওর সাথে ছাড়া কারোর সাথে হতেই পারেনা! তুই ওকে বিয়ে না করলে আমার সাথে কোনো সম্পর্ক থাকবেনা, তোকে ত্যাজ্যকন্যা করে দেব!"" এই বলে আমি হো হো করে হেঁসে উঠলাম।


ও বিরক্ত হয়ে চলে যাচ্ছিল। আমি হাতটা ধরে আটকালাম।


"আমার একজন বয়ফ্রেন্ড আছে!" ক্রুদ্ধভাবে বলল ও।


"ঈশা...", আমি ওর চোখে চোখ রেখে বললাম "আমি আজও তোর কাছে এতটা পর হলে বলতে পারতিস, আমরা দেখা করতাম না নাহয়। তাহলে কেন এলি... আর আমি তোর হাতটা আজ যেভাবে ধরলাম, আর সেদিন যে মনোভাব নিয়ে ধরতাম, সেটা এক নয়।"


আমরা হাটতে লাগলাম পাশাপাশি রাস্তা ধরে। অনেক আগে জেশপের পাশে এই গলিটা দিয়েই কতদিন হেটেছি তার ইয়ত্তা নেই। এই গলিটা আমাদের বিবর্তন দেখেছে।


"ঈসস... এখন ভাবলেও কেমন লাগে, একসময় রাস্তাঘাটে যেখানে সেখানে তোর হাত ধরে টানতাম, চুমু খেতাম... এখন ভাবি আশেপাশের লোকজন কতটা embarassed হত আমাদের দেখে।"


"এতদিনে বুঝলি?"


"তুই তো জানিসই আমি একটু পাগল টাইপের।" (মনে মনে বললাম, তুইই একমাত্র পারিস এই পাগলামো সহ্য করতে। আর কেউ কখনো পারেনি)


বললাম, "এই নিয়ে তুই টোটাল ৭৯৭৪ বার আমার থেকে দূরে গিয়ে আবার ফিরে এলি। বারবার কী পাস গিয়ে, জানিস তো কোনো লাভ হয়না।"


"আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে।"


"হমম, জানি। তোর সব রাগ-অভিমান তো আমারই ওপরেই ছিল সবসময়। আর তোর মূল্যবান সম্পদগুলো সবসময় দিয়ে এসেছিস ওই ছেলেটাকে।"


"ওর প্রতিও আমার যথেষ্ট অভিমান আছে।"


"সেই। আমারটার সামনে ওসব কিছুই না। যে অভিমানের জন্য তুই প্রায় ২ বছর দূরে থাকলি... পারবি ওর ক্ষেত্রে?"


অনেক্ষণ নিশ্চুপ দুজনে।


"ওর অভিমানটা আলাদা ধরণের..."


"থাক। আর যুক্তির পাহাড় সাঁজাতে হবেনা।"


###


মনে মনে সবসময় তোর ভালো চাই, ওপরের এই কথোপকথোনটা যতই কাল্পনিক হোক। তুই দূরে থাকলেও সবাই জানে যে, তুই আমার জন্যই। আর সেটাকেই সবাই ভয় করে। 


আজ পাতাগুলোও নড়ছেনা। এতটুকু হাওয়া নেই। সবাই মৃত। তাও আমরা কোনো এক প্রবল শক্তির টানে এই মৃতনগরীর পথের ধূলোয় পা মেলাচ্ছি। কিছু জিনিস এই ব্রহ্মান্ডে চিরকাল অজ্ঞাতই থেকে যায়। যেমন তোর আর আমার সম্পর্কের কারণ।

Comments

Popular posts from this blog

Being Innovative

Universe